কি দেশে বসবাস করি, একজন ব্যবসায়ী,একজন কমার্শিয়াল ব্যাংকার, ব্যাংকিং অভিজ্ঞতহীন একজন শিক্ষক, বা আমলা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হতে পারে, অথচ ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে জয়েন করে ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বৎসর চাকুরী করতে করতে সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হওয়ার পরও গভর্নর হতে পারে না। এ যেনো এমন এক ব্যাপার, গভর্নর পদ যেনো সেন্ট্রাল ব্যাংকের লোকজনের জন্য যেনো এটা নিষিদ্ধ এলাকা। ভুলেও যেনো বাংলাদেশ ব্যাংকের লোকজন কে গভর্নর বানানো না হয়, তা সে যতো অভিজ্ঞ আর সৎ অফিসার ই হোক। যেনো কোরান এর আইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অফিসার দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক চালানোর যোগ্যতা নেই, সব যোগ্যতা শুধু এ দেশের রিটায়ার্ড আমলা, বাণিজ্যিক ব্যাংকার,শিক্ষক বা ব্যবসায়ীদের ই আছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা “সহকারী পরিচালক” নিয়োগে ২/৩ টা প্রথম শ্রেণীর ডিগ্রী লাগে যা সিভিল সার্ভিস ও লাগে না।
লক্ষ্যনীয়, সচিবালয়ে যদি ক্যাডার সার্ভিস ছাড়া ঢুকা না যায় বা সচিব/সি. সচিব না হওয়া যায়,বিচার ক্যাডার এ যদি বিচার পতি ছাড়া অন্যরা না ঢুকতে পারে, বাহিনী গুলোতে যদি অন্য ক্যাডারের সদস্যারা না ঢুকতে পারে- তা হলে সেন্ট্রাল ব্যাংকিং এর মতো একটা টেকনিক্যাল ও পেশাদার প্রফেশনে কেনো সেন্ট্রাল ব্যাংকের অভিজ্ঞতহীন ব্যাক্তি গভর্নর পদে যোগদান করবেন?
এ জাতির এটাই দূর্ভাগ্য, আজপর্যন্ত কোনো সরকারই সেন্ট্রাল ব্যাংকারদের সততা আর অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন পূর্বক তাদেরকে গভর্নর হিসেবে পদায়ন করার বিষয়টি কখনই বিবেচনা করে নি। আচ্ছা, সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে গভর্নর নিয়োগ করলে কি উনি নিয়োগ প্রদানকারী সরকার প্রদানের বা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী না শুনে পারবেন? তা হলে কেনো আমাদের সরকারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের দীর্ঘ অভিজ্ঞ কর্মকর্তা কে গভর্নর নিয়োগ করেন না?
আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি অন্যান্য অনুকরণীয় নতুন নতুন অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তসমূহের মতো দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংকের জন্য একটা সাহসী সিদ্ধান্ত নিবেন?





