হজের টাকা জমায় নিতে জালিয়াতি: শাস্তি না দিয়ে সোনালী ব্যাংকের অভিযুক্ত ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হককে ঢাকায় বদলি, ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা
অর্থনীতির খবর : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সোনালী ব্যাংক পিএলসি, ঘাঘর বাজার শাখার ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হকের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা কৌশলে সরিয়ে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধের প্রমাণ মেলার পরেও তার বিরুদ্ধে কঠোর কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ঢাকায় বদলি করায় সাধারণ গ্রাহক ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে আল-আমিন শেখ নামে এক গ্রাহক হজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাঁচ লাখ টাকা জমা দিতে সোনালী ব্যাংক ঘাঘর বাজার শাখায় যান। তিনি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হকের কাছে পুরো পাঁচ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেন। টাকা গণনার পর ক্যাশ অফিসার দাবি করেন সেখানে ৪,৫০০ টাকা কম রয়েছে। গ্রাহক আল-আমিন শেখ পূর্ণ টাকা জমা দেওয়ার কথা জানালে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে গ্রাহকের চ্যালেঞ্জের মুখে শাখা ব্যবস্থাপক ফয়সাল হোসেন সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন। এতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হক গোপনে ৫০০ টাকার ৯টি নোট (মোট ৪,৫০০ টাকা) আলাদা স্থানে সরিয়ে রেখেছিলেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক আল-আমিন শেখ বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে আমার দাবির সত্যতা মিলেছে। আমি এই জালিয়াতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযুক্ত কর্মকর্তা ফৌজিয়া হকের দাবি, ব্যাংকে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় ভুলবশত এমনটি ঘটেছে এবং তিনি পরবর্তীতে সরি বলেন ও গ্রাহকের টাকা ফেরত দিয়েছেন।
শাখা ব্যবস্থাপক ফয়সাল হোসেন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রাহককে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টিকে প্রাথমিক ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফৌজিয়া হকের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ফৌজিয়া হককে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। উল্টো বিভাগীয় শৃঙ্খলা মূলক ব্যাবস্থা না নিয়ে তাকে ‘পুরস্কার’ স্বরূপ ঢাকার অভিজাত গ্রীনরোড শাখায় বদলি করা হয়েছে।ফৌজিয়া হককের এই বদলি নিয়ে বিতর্ক ও জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
একজন ব্যাংক কর্মকর্তার এমন জালিয়াতির পরও কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে সুবিধাজনক স্থানে বদলি করার সিদ্ধান্তকে গ্রাহকরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন। ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযুক্ত ক্যাশ অফিসারের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।
“আর্থিক সেক্টরে এ জাতীয় নমনীয় পদক্ষেপ গ্রাহকের আস্থার জায়গাটিকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর ও সতর্ক হওয়া জরুরি বলে মনে করে বিশ্লেষকরা।
ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তাহীনতা দূর ও আস্থার সংকট কাটাতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে যথাযথ বিভাগীয় শৃঙ্খলা মূলক ব্যাবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে।






