রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওয়াহিদের বিরুদ্ধে ফ্রিজ অ্যাকাউন্ট থেকে ডলি কনস্ট্রাকশনকে টাকা তুলে নিতে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি:রূপালী ব্যাংক পিএলসির মতিঝিল কর্পোরেট শাখার বিতর্কিত গ্রাহক ‘ডলি কনস্ট্রাকশন লিঃ’-কে নিয়মবহির্ভূতভাবে নগদ টাকা উত্তোলনের সুবিধা প্রদান এবং ফ্রিজ অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ছাড় করতে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াহিদ ও সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজার ডিজিএম সাখাওয়াত হোসেন সহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ পত্র প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, রূপালী ব্যাংক মতিঝিল কর্পোরেট শাখার গ্রাহক ডলি কনস্ট্রাকশন লিঃ-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৬০০ (ছয়শত) কোটি টাকার ঋণখেলাপি ও ঋণ জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গ্রাহকের বন্ধকীকৃত সম্পত্তির নিম্নমান, অতিমূল্যায়ন এবং ঋণ জালিয়াতি সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত পরিচালনা করছে এবং ইতিমধ্যে ব্যাংকটির ৮ (আট) জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে।
বর্তমানে গ্রাহকের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। পাশাপাশি, উক্ত গ্রাহক কর্তৃক ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫০ (তিনশত ৫০) কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
৮০টি ব্যাংক গ্যারান্টি ও জোরপূর্বক ঋণ সৃষ্টি
ডলি কনস্ট্রাকশন মতিঝিল শাখা থেকে প্রায় ৮০ (আশি)টি ব্যাংক গ্যারান্টি গ্রহণ করেছিল, যার মেয়াদ ইতিমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু গ্রাহকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং সংশ্লিষ্ট কাজের ওয়ার্ক অর্ডার বাতিল হওয়ার ফলে রূপালী ব্যাংক বাধ্য হয়ে ‘ফোর্সড লোন’ (Forced Loan) সৃষ্টি করে ব্যাংক গ্যারান্টির দায় পরিশোধ করে আসছে।
বকেয়া বিল দিয়ে সরাসরি নগদ উত্তোলন
অভিযোগে বলা হয়, গ্রাহকের পূর্বের কিছু বকেয়া বিল বর্তমানে ব্যাংকের শাখায় জমা হলেও, নিয়ম অনুযায়ী সেই অর্থ দিয়ে বিদ্যমান ঋণ সমন্বয় (Adjustment) করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা ও রূপালী ব্যাংকের নিজস্ব বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে শাখা কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে সরাসরি নগদ অর্থ উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মতিঝিল কর্পোরেট শাখার প্রধান ও উপমহাব্যবস্থাপক জনাব শাখাওয়াত হোসেন এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি বিভিন্ন অনৈতিক নথিতে স্বাক্ষরের জন্য অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন।
অভিযোগে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তার নামও উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, তিনি শাখা প্রধান শাখাওয়াত হোসেনের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন এবং তাদের পারস্পরিক যোগসাজশে ব্যাংকে নানা অপকর্ম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ব্যাংকের আর্থিক স্বার্থ ও গুরুতর অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। উক্ত অভিযোগপত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।






